যৌনতা কি পছন্দ, নাকি প্রকৃতি? — সমকামিতার পেছনে বিজ্ঞান কী বলে
আগুনের উপর দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার উদয়
যন্ত্রের যুগে মানুষের ঠিকানা কোথায়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পেশার ভবিষ্যৎ এবং যে প্রশ্নটা এড়িয়ে যাওয়া চলবে না
রিলসের ফাঁদ: যখন অ্যালগরিদম আমাদের মনকে পণ্য বানিয়ে ফেলে
এক কক্ষ, দুই কক্ষ — আর সংবিধান বদলের রাজনীতি
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ছাড়া বিচার অসম্ভব: রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সময় এখনই
বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামল এক ভয়াবহ দমন-পীড়নের সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে উঠেছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলি চালানো—এসব অপরাধে রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ সময় ও ইতিহাস বারবার উপস্থাপন করেছে।
এইসব অপরাধ শুধুমাত্র প্রশাসনিক “অতিরিক্ত ব্যবহার” হিসেবে দেখলে তা হবে ভয়াবহ মানবাধিকারের লঙ্ঘনকে তুচ্ছ করা। বরং এগুলো ছিল সুপরিকল্পিত, কাঠামোগত, এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীলনকশার অংশ। আর এই অপরাধগুলোর বিচার সাধারণ সামরিক আদালত বা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়, বরং নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গঠিত একটি স্বাধীন ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনালের’ মাধ্যমে হওয়া জরুরি।
কেন সামরিক ট্রাইবুনাল নয়?
১. স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব:
সামরিক আদালত মূলত বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার জন্য গঠিত, যেখানে বাহিনীর হায়ারার্কির প্রতি আনুগত্যই বিচারিক প্রক্রিয়ার বড় চালিকাশক্তি। এই ধরনের কাঠামোয় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সত্যিকার বিচার হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
২. বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ:
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা যে অপরাধগুলো করেছেন, তা নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে—যেমন: রাতের অন্ধকারে তুলে নেওয়া, র্যাব-পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা, রাজনৈতিক কর্মীদের নিখোঁজ করা ইত্যাদি। এই অপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হওয়ায় এর বিচারও হওয়া উচিত নাগরিক সমাজের তত্ত্বাবধানে গঠিত স্বাধীন ট্রাইব্যুনালে।
৩. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড:
গণহত্যা, গুম, এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ (International Crimes)। আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার মানদণ্ড অনুসরণ করেই এমন ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়া উচিত। যেমনটি হয়েছিল রুয়ান্ডা, যুগোশ্লাভিয়া কিংবা সিয়েরা লিওনের ক্ষেত্রে।
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের যুক্তি
১. জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ:
একটি স্বতন্ত্র, নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে। এতে ভুক্তভোগী পরিবাররা সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী হবে, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা সহজ হবে।
- রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার:
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইনসভার অধীন হলেও বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতায় পরিচালিত হবে। ফলে সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে এটি নিরাপদ থাকবে—যা সামরিক বা পুলিশি কাঠামোতে সম্ভব নয়। - ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন:
এই ট্রাইব্যুনাল ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হবে: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ চাইলেই জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ করে দায়মুক্তি পাবে না।
প্রস্তাবিত ট্রাইব্যুনাল কাঠামো কেমন হতে পারে?
- সাবেক বিচারপতি, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক আইনজীবী ও নাগরিক সমাজ প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেল
- বিশেষ তদন্ত সংস্থা যা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়
- প্রবেশযোগ্য তথ্যব্যবস্থা, যাতে জনগণ জানতে পারে মামলা কোথায় কী অবস্থায় আছে
- সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি, যা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে
পরিশেষে এটাই বলার থাকে, ফ্যাসিস্ট শাসনের নামে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে, তাদের বিচার সামরিক ট্রাইব্যুনালের মতো বন্ধ গেটের ভেতরে নয়, বরং স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হতে হবে। এটাই ইতিহাসের দাবি, এটাই ন্যায়বিচারের দাবি।
২০২৪-এর গণহত্যার বিচার সামরিক নয়, হোক বিশেষ ট্রাইবুনালে—ন্যায়বিচারের স্বার্থে
জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের গণহত্যায় জড়িত সহযোগী সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিচার বিশেষ ট্রাইবুনালে করা হোক
আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে গণহত্যায় জড়িত সকল সামরিক ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সামরিক ট্রাইবুনালে বিচার না করে কেন বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচারকার্য সম্পাদন করা দরকার সে বিষয়ে কিছু যৌক্তিকতা প্রদর্শন করে নিজস্ব বিবৃতি দেয়া হয়েছে।
মানবিকতা বনাম বিদ্বেষ: আসিফ মাহতাবের বক্তব্য এবং আমাদের দায়
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা: একটি বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বহুদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির একাংশ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে—বিশেষ করে যখন দেখা যায় যে কিছু মাদ্রাসায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা এবং আধুনিক জ্ঞানের প্রতি বিরূপতা ছড়িয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তখন তা শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জাতীয় পর্যায়ে একটি মৌলিক সংকটের রূপ নেয়।
ধর্মীয় উগ্রবাদ কীভাবে জন্ম নেয় মাদ্রাসায়?
বাংলাদেশে মাদ্রাসা broadly দুই ধরনের: আলিয়া মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসা। আলিয়া মাদ্রাসায় সরকার নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী ধর্মীয় এবং সাধারণ শিক্ষা দেয়া হয়, যেখানে কওমি মাদ্রাসা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি পর্যবেক্ষণের বাইরে থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।
কিছু কওমি মাদ্রাসায় এমন পাঠ্যক্রম ও পরিবেশ গড়ে ওঠে যেখানে আধুনিক বিজ্ঞান, দর্শন, সমাজতত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলোকে অবিশ্বাস করা শেখানো হয়, এবং ভিন্নমত, ভিন্ন ধর্ম বা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি ঘৃণা জন্মায়। ছাত্রদের শিশু বয়স থেকে শেখানো হয় যে শুধুমাত্র তাদের ধর্মীয় ব্যাখ্যা সঠিক, এবং যারা এটির বাইরে, তারা শত্রু। এই মনোভাব ধীরে ধীরে উগ্র মতাদর্শে রূপ নেয়।
জাতীয় পর্যায়ে এর প্রভাব
১. সামাজিক বিভাজন
উগ্রবাদী চিন্তা তরুণদের একঘরে করে ফেলে। তারা সমাজের অন্য অংশের মানুষকে ‘কাফের’ বা ‘ভ্রান্ত’ বলে মনে করতে শুরু করে। ফলে সমাজে সহাবস্থানের জায়গাটা সংকুচিত হয়ে পড়ে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী অধিকার, বা ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার প্রতি ঘৃণা বাড়তে থাকে।
২. সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি
ধর্মীয় সংকীর্ণতা থেকে যখন ‘জিহাদি’ মতাদর্শে বিশ্বাস জন্মায়, তখন সেটা অস্ত্র তুলে নেয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা-সম্পর্কিত চরমপন্থী গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে যারা হামলা, হত্যা বা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত।
৩. মানবসম্পদ ও শিক্ষার মান হ্রাস
যেসব শিক্ষার্থী কেবলমাত্র সংকীর্ণ ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়েই বড় হয়, তাদের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা বা কর্মজীবনে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ফলে একটা বড় তরুণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয় না।
৪. রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর প্রতি হুমকি
বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও এই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি সমান্তরাল ‘আইডিওলজিকাল স্টেট’ গড়ে তোলে। যেখানে রাষ্ট্রের আইন নয়, বরং ফতোয়া ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
সমাধান কী?
- শিক্ষা সংস্কার: মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে আনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা উচিত।
- উপযুক্ত মনিটরিং: ধর্মের নামে ঘৃণা, সহিংসতা বা উগ্রতা ছড়ানো হচ্ছে কিনা তা নজরদারিতে রাখা জরুরি।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: ধর্মের মানবিক দিক, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে শেখানো উচিত।
- ইমাম ও আলেমদের প্রশিক্ষণ: আধুনিক ও মানবিক ব্যাখ্যায় ধর্ম প্রচারে আলেমদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইতিবাচক রূপান্তর সম্ভব।
ধর্মীয় শিক্ষা কখনোই উগ্রতা বা সংকীর্ণতার বাহক হওয়া উচিত নয়। ইসলাম যেমন শান্তি ও সহনশীলতার ধর্ম, তেমনি একটি উন্নত রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিও হলো মতের পার্থক্য মেনে চলা ও মানবিক সহাবস্থান। মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের সহযাত্রী করতে হলে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও উগ্রবাদকে প্রতিহত করতে হবে, যুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।
ধর্মীয় সহিষ্ণুতার পথ ধরে — সহিংসতা থেকে মুক্তি চাই আমরা
বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্যজোটের নেতাকর্মীদের উপর মৌলবাদীদের হামলার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। এই হামলাগুলো ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য হামলার ঘটনা তুলে ধরা হলো:
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর মৌলবাদী হামলার চিত্র
1. হাজারী গলি সহিংসতা (নভেম্বর ২০২৪, চট্টগ্রাম)
হাজারী গলিতে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঘটে। পোস্টটি ইস্কনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের উপরও হামলা হয়, যার ফলে ১২ জন আহত হন। এই ঘটনায় ৮০ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
2. নাসিরনগর সহিংসতা (অক্টোবর ২০১৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এই সহিংসতায় ১৯টি মন্দির ও প্রায় ৩০০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়, এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
3. রামু সহিংসতা (সেপ্টেম্বর ২০১২, কক্সবাজার)
ফেসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা চালানো হয়। ২৪টি বৌদ্ধ মন্দির ও ৭৫টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এই সহিংসতায় প্রায় ২৫,০০০ জন অংশগ্রহণ করেছিল এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
4. সুনামগঞ্জ সহিংসতা (মার্চ ২০২১, সুনামগঞ্জ)
ফেসবুকে ইসলামি পণ্ডিত মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সুনামগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়। এই ঘটনায় ৮৮টি বাড়ি ও ৭-৮টি মন্দির ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এই হামলার নেতৃত্ব দেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহিদুল ইসলাম স্বাধীন। এখন পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
5. হাথাজারী সহিংসতা (ফেব্রুয়ারি ২০১২, চট্টগ্রাম)
হাথাজারীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ১৪টি মন্দিরে হামলা ও লুটপাট করা হয়। এই ঘটনায় ৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঐক্যজোটের প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যজোট (BHBCOP) এই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেছে। তাছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলোও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা প্রচারের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব।